ব্যাংকের নমিনি টাকার মালিক?

 ব্যাংকের নমিনি টাকার মালিক? ভুল ধারণা ভাঙুন!



অনেকেই মনে করেন, ব্যাংকে ছেলেকে নমিনি করেছি মানে সব টাকা ছেলেই পাবে। স্ত্রী-মেয়েরা বঞ্চিত হবে।

আইন কী বলে?  

নমিনি মালিক নন, তিনি শুধু জিম্মাদার। তার কাজ হলো টাকা তুলে সব ওয়ারিশের মধ্যে ফারায়েজ অনুযায়ী ভাগ করে দেওয়া।


 নমিনি টাকা না দিলে কী করবেন?  

ওয়ারিশান সার্টিফিকেট নিয়ে ব্যাংকে অভিযোগ করুন সাকসেশন মামলা করুন। কোর্ট সরাসরি আপনার ভাগ আপনাকে দিয়ে দিবে।মনে রাখবেন , নমিনি হলো পিয়ন। চিঠি তার হাতে আসে, কিন্তু চিঠির মালিক বস। টাকা মেরে দিলে নমিনীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও করা যাবে ।

কিভাবে কাজ করে:

1. হিসাব খোলার সময় মনোনয়ন (Nomination):

যে কেউ তার ব্যাংক হিসাব খোলার সময় (বা পরবর্তীতে) একটি ফর্মে একজন বা একাধিক ব্যক্তিকে Nominee করতে পারেন। এতে Nominee-র নাম, ঠিকানা, সম্পর্ক, ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র ইত্যাদি তথ্য দিতে হয়।

2. হিসাবধারীর মৃত্যু হলে:

Nominee ব্যাংকে আবেদন করে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (Death Certificate, NID ইত্যাদি) জমা দিলে ব্যাংক ওই টাকার উপর তার দাবি মেনে নেয়।

তবে বাংলাদেশে আইনি দিক থেকে, Nominee আসলে কেবল Custodian (অস্থায়ী অভিভাবক)। তিনি টাকা হাতে পাবেন, কিন্তু প্রকৃত আইনগত উত্তরাধিকারীদের (শরীয়ত/আইন অনুযায়ী) মধ্যে টাকাটা ভাগ করতে হয়।

মানে, Nominee-কে টাকা হস্তান্তর করা মানে সে এককভাবে টাকার মালিক হয়ে গেলো না, বরং Legal Heirs-দের মধ্যে সঠিকভাবে বণ্টন করতে হবে।

3. যদি Nominee না থাকে:

হিসাবধারীর মৃত্যু হলে উত্তরাধিকারীদেরকে আদালতের সাকসেশন সার্টিফিকেট নিয়ে আসতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে।

এজন্য ব্যাংক সবসময় Nominee রাখার পরামর্শ দেয়।


Nominee করার সুবিধা:

টাকার ওপর দ্রুত প্রাপ্যতা পাওয়া যায়, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার ঝামেলা কিছুটা কমে।

উত্তরাধিকারীদের মধ্যে অস্থায়ীভাবে টাকা পাওয়ার জন্য সহজ সমাধান।

Nominee হলো একজন নির্ধারিত ব্যক্তি যিনি হিসাবধারীর মৃত্যুর পর ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে পারবেন। তবে তিনি একক মালিক নন; আইন অনুযায়ী প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের মধ্যে টাকা ভাগ করতে হয়।

Comments